Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

উত্তরবঙ্গের অনাঘ্রাত পর্যটনক্ষেত্র বুংকুলুং-তুরুক-সেলফু

 


বেড়াতে যাওয়ার দিন সকাল থেকে সারা বাড়িতে যেন হইহই পড়ে যেত। সন্ধে বা রাতের ট্রেন হলে সবাই ট্রেনে উঠেই রাতের খাবার খেত, কারণ তার একটা আলাদা মজা ছিল। বাঙালির ট্রেন-ভ্রমণের কয়েকটি বাঁধাধরা মেনু ছিল। হয় লাল আটার নরম পরোটা এবং আলুভাজা আর তা-নইলে সাদা ময়দার ন্যাদনেদে লুচি, কালোজিরে আর চেরা কাঁচালঙ্কা ছড়ানো ধবধবে আলুছেঁচকি। আর শেষপাতে অবশ্যই গিরিশ কিংবা নকুড়ের কড়াপাকের সাদা গুলি সন্দেশ। এখানে অবশ্যই যেটা বলার, ট্রেনের লুচির ময়দাটি সবসময় ফুটন্ত গরমজলেই মাখা হত, ফলে তা পরের দিন সকাল অবধি নরম তুসতুসে থাকত। মনোলোভা খাবার তো বাড়িতে আমরা কতই খাই, কিন্তু ট্রেনের দুলুনির মধ্যে বসে যে খাওয়া, তার বোধহয় কোনও তুলনা হয় না। সেই সব দিনে খাবার পরিবেশন করা হত কানায় খাঁজকাটা এক ধরনের শক্ত কাগজের থালায়। জল থাকত বড়সড় ওয়াটার বটলে, সবাই সেটা আলগোছে খেত। ছোটদের জন্য ছোট মাপের গ্লাস আনা হত। চা নিয়ে যাওয়া হত লম্বাটে রঙিন ফ্লাক্সে। খাওয়া শেষে ট্রেনের কলে ধুয়ে আসা হাত বাড়ি থেকে আনা একটি পরিষ্কার গামছায় মোছবার রেওয়াজ ছিল, কারণ টিস্যু পেপারের তখনও এত রমরমা হয়নি

আগে ট্রেন জার্নিতে ছোটদের মধ্যে লুডো আর বড়দের তাস খেলার খুব চল ছিল। চল ছিল গানবাজনা করার। আমাদের যৌথ পরিবারের ভ্রমণে ট্রেনের কামরায় হারমোনিয়াম, বেহালা, তবলা সহযোগে গানবাজনা করার স্মৃতি আছে। মেয়েরা ট্রেনে টুকটাক বাংলা ম্যাগাজিন পড়তেন। ঘাড়-গুঁজে ইংরেজি নভেল পড়ার মতো যাত্রীরা বেশির ভাগই ছিলেন এসি কোচের সওয়ারি। ছোটরা কখনওই বাঙ্ক- একলা শুতো না শুতো বাঙ্ক-এর ভেতরের দিকে, মা-জেঠিমার কোল ঘেঁষে। তাঁদের মুখে সমুদ্র বা পাহাড়ের গল্প শুনতে শুনতে আর দুলতে দুলতে তারা ফুলের মতো ঘুমিয়ে পড়ত। আর পর দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখত, গতকাল রাতের গল্পটা কেমন ম্যাজিকের মতো সত্যি হয়ে গিয়েছে!

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ