Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ভূষন্ডেশ্বর মন্দির

 

ভূষন্ডেশ্বর মন্দি


দীঘা তো আমরা সবাই যাই l আবার দীঘার আশেপাশের জায়গা গুলো আমরা সাইডসিইং হিসেবে করে থাকি l তারমধ্যে তালসারি উদয়পুর চন্দনেশ্বর মন্দির আর এদিকে মোহনা তাজপুর শংকরপুর মন্দারমনি ইত্যাদি l আবার অনেকে আরেকটু বেশি হলে বিচিত্রপুরও গিয়ে থাকে l বিচিত্রপুর এর আরো কিছুটা দূরেই রয়েছে আরও একটি দর্শনীয় জায়গা যার নাম ভূষন্ডেশ্বর l

দীঘা থেকে ২১কিমি এবং চন্দনেশ্বর মন্দির থেকে ১৮ কিমি দূরে ওড়িশায় এই ভূষন্ডেশ্বর মন্দির অবস্থিত l আমি আর পার্থ দা সেদিন দীঘা ঘুরতে গিয়ে এই ভূষন্ডেশ্বর গিয়েছিলামl চন্দনেশ্বর মন্দির এর বাম দিক দিয়ে একটা রাস্তা চলে গেছে l ওই রাস্তা ধরে পার্থ দা বাইক ছুটিয়ে দিলো l গ্রামীণ রাস্তার মতো পিচ রাস্তা এঁকে বেঁকে চলেছে তো চলেছে l রাস্তার দুই ধারে গাছ গাছালির অভাব নেই l প্রখর রোদের মধ্যেও গাছগুলির ছাড়া রাস্তার উপর পড়েছিল l সরি বাইকে যেতে তীব্র দাবদাহে খুব একটা কষ্ট হয়নি l গাছপালা গুলির মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের গাছপালা বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয় কেননা খুব কাছাকাছি সমুদ্র l রাস্তার দুই ধারে মাঝে মাঝেই কেয়া গাছের ঝোপঝাড় রাস্তাটিকে আরো সুন্দর করে তুলেছে l মাঝে মাঝে এসে পড়ছে ঘরবাড়ি,গ্রাম, জনপদ l সবকিছুতেই ডানে-বামে ছেল দিয়ে আমরা ছুটে চললাম ভূষন্ডেশ্বর মন্দিরের দিকে l একবার এই এঁকেবেঁকে চলে রাস্তা এসে পৌঁছলো একেবারে সমুদ্রের ধারে l বঙ্গোপসাগরকে সঙ্গী করে উপকূল বরাবর কিছুটা যাওয়ার পর আবার সমুদ্রকে দূরে ফেলে চললাম l রাস্তার কাজ চলছে তাই ভেতর দিয়ে যেতে হলো l আমার চলার পথ কখনো এলো দুই দিকে কেবল অসংখ্য মাছের ভেড়ি l এগুলো পেরিয়ে যেতেই দেখলাম বাম দিকে দেখলাম সমুদ্রে একটা নদী এসে মিলেছে অর্থাৎ মোহনা l পার্থ দা বললো এটা সুবর্ণরেখা নদীর মোহনা, নাম চৌমুখ l সেই মোহনার বিস্তৃত বিস্ময়ের উদ্রেক করে l ভাটার সময় ট্রলার, নৌকা, বোট সব াদায় থ্যাবড়া হয়ে বসে রয়েছে l এই মোহনা থেকে কিছুটা যাওয়ার পর পৌঁছে গেলাম ভূষন্ডেশ্বর মন্দির l কুম্ভীরগড়ি গ্রামে এই মন্দির l মন্দির চত্বরে গাছ পালা খুবই কম l তাই ওপর থেকে যেন অগ্নি বর্ষণ হচ্ছে l একটা পুকুর আছে, তার চার পাশে কয়েকটা গাছ আছে l সারি সারি দোকান l তবে প্রায় সবই বন্ধl গ্রীষ্মের এই গরমে এই মন্দিরে ভক্তের ভীড় খুবই কম l তাই হয়তো দোকান গুলো বন্ধ l

বর্তমানে যে মন্দিরটি রয়েছে সেটি একটি টিনের ছাওয়া ঘরl আগে একটা মন্দির ছিল তবে সেটা ভেঙে এখন বেশ বড়ো সড় মন্দির করার জন্য কাজ চলছে l তাই এখন ভূষন্ডেশ্বর এর অধিষ্ঠান ওই টিনের ছাউনিতে l

এই ভূষন্ডেশ্বর শিব লিঙ্গ টি এশিয়ার বৃহত্তম শিব লিঙ্গ এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিব লিঙ্গ l এটির উচ্চতা ১২ ফুট l আর প্রস্থে প্রায় ১৪ ফুট l এই শিব লিঙ্গের ওপরে যতটা নীচে ততটাই প্রথিত আছে l এই শিব লিঙ্গটি তিনটি অংশে বিভক্ত l মাঝের অংশটি ষড়ভুজাকার l লিঙ্গ টি দক্ষিণ-পূর্বে হেলে আছে l

এই ভূষন্ডেশ্বর শিব লিঙ্গ টি নিয়ে একটা লোককথা প্রচলিত আছে l কথিত আছে যে রাবন সর্বশক্তিমান হওয়ার জন্য একবার হিমালয়ে মহাদেবের তপস্যা করেন l তাতে দেবাদিদেব সন্তুষ্ট হয়ে রাবন কে একটি শিব লিঙ্গ দিয়ে বলেছিলেন যে শিব লিঙ্গ যেন লঙ্কায় স্থাপন করে রাবন পুজো করে l আর কোনো অবস্থাতেই এই শিব লিঙ্গ অন্য কোথাও মাটিতে রাখা যাবে না l রাখলে আর সেখান থেকে তোলা যাবে না l রাবন শিব লিঙ্গ টি নিয়ে লঙ্কায় যাওয়ার পথে ওড়িশার এই গ্রামে যখন এসে পৌঁছান তখন তার প্রাতঃ কর্মে যাওয়ার প্রয়োজ পড়ে l তাই তিনি এই শিব লিঙ্গ টি একটি বালকের হাতে দিয়ে যান এবং মাটিতে রাখতে বারণ করে যান l কিন্তু ওই বালক আসলে ছিলেন স্বয়ং নারায়ণ l নারায়ণসহ সকল দেবতা কখনোই চাইতেন না যে রাবন মহা শক্তিধর হয়ে উঠুক l তাই বালক বেসে এখানে হাজির হয়েছে l বালক রুপী নারায়ণ শিব লিঙ্গটি এখানে মাটিতে রেখে দেন l রাবন এসে দেখে শিব লিঙ্গ টি মাটিতে ইতিমধ্যে প্রোথিত হয়ে গেছে l তিনি তা তোলার চেষ্টা করলে শিব লিঙ্গটিও আকার আয়তনে বড়ো হতে শুরু করে l ফলে ব্যর্থ হয়ে রাবন ফিরে যায় l কালের চক্রে লিঙ্গটি মাটিতে চাপা পড়ে যায় l হারিয়ে যায় ঝোপ ঝাঁড় জঙ্গলে l জ্বলেশ্বরের এক ব্যক্তি স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে লিঙ্গটি খুঁড়ে বের করার ব্যবস্থা করেন এবং পূজার্চনা শুরু করেন l মন্দির স্থাপন করেন l এভাবেই আজও এখানে এই শিব পূজিত হচ্ছেন l

শিব রাত্রিতে এখানে বেশ বড়ো মেলা বসে l প্রচুর লোক সমাগম হয় l এই ভূষন্ডেশ্বর খুবই জাগ্রত l

আমরা এই মন্দির দেখে দুপুরের পরে দীঘায় পৌঁছলাম l মনে থেকে গেলো এশিয়ার বৃহত্তম শিব লিঙ্গ দেখার রেশ

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ