Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ভ্রমণে_বাংরিপোসি


 

ভ্রমণে_বাংরিপোসি
ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে গিয়েছিলাম পাহাড়, জলপ্রপাত ও জঙ্গলে ঘেরা উড়িষ্যার বাংরিপোসি’তে। আমরা গিয়েছিলাম নিজেদের গাড়িতেই, ভোরবেলা বেরিয়ে সাড়ে চার ঘন্টার মধ্যেই পৌঁছে গিয়েছিলাম। বাংরিপোসি পৌঁছে হাইরোডের ধারে প্রথমেই দেখতে পেলাম ‘হোটেল সিমলিপাল’ ও খানিক দূরে গিয়েই দেখতে পেলাম ‘খৈরি রিসর্ট’, আমাদের এখানেই বুকিং করা ছিল আগে থেকে। কটেজের মতো কয়েকটি রুম গ্রাউণ্ড ফ্লোরে থাকলেও আমাদের বুকিং ছিল ফার্স্ট ফ্লোরে। ব্যালকনি থেকে অবশ্য পাহাড় দেখা যায় না, শুধু দেখা যায় রিসর্টের সবুজ গাছগাছালি। তবে মেন গেট থেকে বাইরে পা রেখে হাইওয়ের ধারে দাঁড়ালেই দূরে দেখা যায় পাহাড়ের সারি। ব্যাগপত্তর রেখে লাঞ্চের অর্ডার দিয়েই বেরিয়ে গেলাম সুলাইপাত ড্যাম দেখতে।
ঠাকুরানী পাহাড়ের কোলে মা দুয়ারসিনির মন্দির(ছবি তোলা হয়নি) পড়লো রাস্তায়। তারপর দুপাশে পাহাড়, জঙ্গলে ঘেরা খানিকটা বেশ দুর্গম রাস্তা। তারপর আবার স্বাভাবিক হাইওয়ে। তারপর অচেনা গ্রাম ও দূরে দূরে নানা আকৃতির পাহাড়, সবুজ মাঠ। একঘণ্টা পর অবশেষে পৌঁছোলাম সুলাইপাত ড্যামের ধারে। টলটলে জল, চারদিকে পাহাড়, শান্ত পরিবেশ— খুবই সুন্দর জায়গাটি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে, ছবি তুলে হোটেলে ফিরলাম, লাঞ্চ করলাম।
পরদিন সকাল সকাল পৌঁছে গেলাম শঙ্করমারা ড্যাম। সবই গুগল ম্যাপের সাহায্যে, সময় লাগলো ৪০ মিনিট মতো। বৃহৎআকার একটি জলাধার ও চারপাশের সুউচ্চ ঘন সবুজ পর্বতসারি দেখে মুগ্ধ হলাম। এত সুন্দর জায়গাগুলির সন্ধান ক’জনই বা জানে! ছবিতে আর সেই সৌন্দর্য কতটুকুই বা ধরা পড়ে।
এরপর গেলাম বালডিহা ড্যাম। শঙ্করমারা ড্যামের মতো অত বৃহৎ না হলেও পাহাড়ে ঘেরা এই জলাধারটিও যথেষ্ট সুন্দর।
এরপর গেলাম সিমলিপাল জঙ্গলের কাছাকাছি সীতাকুণ্ড ঝর্ণার কাছে। উঁচু পাহাড় থেকে নেমে আসা ও নুড়িপাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা জলধারা ক্যামেরাবন্দী করলাম, বর্ষাকালে এর রূপ আরো খোলে। গাড়ি থেকে নেমে তিন চার মিনিট হাঁটলেই এই ঝর্ণার দেখা মেলে। উঁচু নিচু পাথর পেরিয়ে ঝর্ণার একদম সামনেটা অবশ্য যেতে পারিনি, খানিক দূর থেকে দেখেই আশ মেটালাম।
ফেরার পথে ‘সিমলিপাল ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি’তে ঢুকেছিলাম। যদিও জঙ্গলটা পুরো দেখতে গেলে আরো বেশ কদিন থাকা প্রয়োজন ও অনেকটা ভিতরে ঢুকলে তবেই সেরা দ্রষ্টব্য স্থানগুলি দেখা যায়, আমরা ঢুকেছিলাম পাহাড়ী নদী পলপলা’কে প্রত্যক্ষ করতে। গেট দিয়ে ঢুকে প্রায় আধঘণ্টা ড্রাইভ করে পৌঁছোনো যায় পলপলা নদীর ধারে। যাওয়ার রাস্তার দুধারেও সুউচ্চ পাহাড় দেখা যায়। জায়গাটির নাম লুলুং, একে ‘Gateway to Simlipal’ও বলা হয়, এখানে ‘লুলুং অরণ্য নিবাস’ বলে একটি রিসর্টও আছে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, শুধুমাত্র ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে পাহাড়ে ঘেরা জঙ্গল ও পলপলা নদীর কুলুকুলু শব্দ যারা উপভোগ করতে চান, তারা এসে থাকতে পারেন এখানে। আমরা নুড়িপাথরের উপর দিয়ে দ্রুতগতিতে বয়ে যাওয়া পলপলা নদী দেখে ফিরে এলাম হোটেলে।
লাঞ্চ করে বেরোলাম ব্রাহ্মণকুণ্ডের উদ্দেশ্যে। এটিও একটি ঝর্ণা তবে ছোট, মূলত একটি পবিত্র জায়গা। ঝর্ণার সামনে জলাধারটিতে কিলবিল করে ভেসে বেড়াচ্ছে মাছের দল। আশেপাশে উঁচু পাহাড়। ব্রাহ্মণকুণ্ড দেখে ফিরে এলাম হোটেলে।
পরদিন সকাল সকাল ব্রেকফাস্ট সেরে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। — Bangriposi, Orissa, India শহরে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ