Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

"বাঙালির হরিদ্বার" উত্তরাখন্ডের হর দোয়ার ঘুরে আসি চলুন



উত্তরাখন্ডের শৈবদের হর দোয়ার আর বাঙালির হরিদ্বার বা বিষ্ণুদ্বার। দেবভূমা চারধামে ঢোকার পথ। মায়াপুরী আর গঙ্গাধর নামে পরিচিত। স্কন্ধ পুরাণ মতে দক্ষযজ্ঞের পর মহাদেব সতীর দেহ কৈলাশে নিয়ে যায় এই পথে। তাই এই জায়গার নাম হর দোয়ার। সাতটি ধর্মস্থানের একটি এই হরিদ্বার। পুরাণের তথ‍্যানুযায়ি সমুদ্রমন্থনের পর গোরুড় অমৃত কলস নিয়ে যাওয়ার পথে এখানে অমৃত পড়ে। তাই বারো বছর পর এখানে মহাকুম্ভ মেলা বসে। এখানে চারিটি ঘাট আছে  সুভাষ ঘাট, কুশার্স ঘাট, রাম ঘাট ও বিষ্ণু ঘাট। সুভাষ ঘাটে সব সময় জাতীয় পতাকা উড়তে থাকে। কুশার্ধ ঘাটে পিতৃপুরুষদের পিন্ডদান হয়। 
সব ঘাটের থেকে এক উল্লেখযোগ‍্য ঘাট হচ্ছে হর দোয়ার কি পৌড়ি ঘাট। দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে।
গঙ্গা পাহাড় থেকে নেমে আসছে এখানে স্রোতস্বনী গঙ্গা দেখলে মনপ্রাণ জুড়িয়ে যায়। জলের সাথে পাল্লা দিয়ে পড়ছে হিম। হিমশীতলতায় স্রোত বলে আমায় দেখো। আর জলের হিমশীতলতা বলে আমায় দেখো। কেউ কাউকে ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। বাঁধানো ঘাটে শিকলের আচ্ছাদন। বিশ্বকর্মা বাস্তুকারদের তারিফ করতেই হয় আরকি। তাঁরা খরস্রোতা নদীতে পর্যটকদের নিরাপত্তার কারণে পতিতপাবন, শান্তিদায়িনী গঙ্গাকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে দিয়েছেন। রেলিং ধরে স্নান প্রয়োজনে আরো গভীরে নামতে পারে। এতে কোন দূর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে না। কল কল করে বয়ে যাওয়া জলের প্রবাহের সাথে সাথে হাওয়া বইছে সুচিবিদ্ধভাবে। শূন‍্যস্থান কোথাও নেই, না জলের গতিবেগে না হাওয়ার গতিবেগে।
বিকেলের অরুণিমা চিকন শোভা আরো বাড়িয়ে দিলো জলের শোভা। দর্শনার্থীদের গঙ্গায়  নিক্ষেপ করা পয়সা খুঁজতে শিশুরা এই শীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জলে। দেখতে ভালো লাগে আবার ঠান্ডার জন‍্য‍ কষ্টও হচ্ছে। 
সন্ধ‍্যা আরতির জন‍্য ঝুড়িতে প্রদীপ সাজিয়ে গঙ্গাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে পণ‍্যর্থীরা। 
খুব সকালে ঘাটে শুরু হয় রামায়ণ পাঠ। শুধু কালো মাথা রামায়ণ পাঠের আসরে। পাঠ শেষে প্রদীপ ভাসানোর ব‍্যবস্থা। সার সার অসংখ‍্য প্রদীপ ভেসে যাওয়া এক দুর্লভ ছবি। মনে হচ্ছে আসে পাশে কোথাও উৎসব হচ্ছে।
গঙ্গার ঘাটে সন্ধ‍্যা আরতীর বিপুল আয়োজনের ঘটা দেখে চমকে যেতে হয়। একদিন না প্রতিদিন গঙ্গা মাইয়ার সন্ধ‍্যা আরতির আয়োজন  হয়। পুজারীদের হাতে বিশাল আকারের পঞ্চ প্রদীপ। একই সাথে এক  সঙ্গে গঙ্গার আরতী শুরু হয় আবার শেষও হয়।
জীবনের এক ঘেয়েমি থেকে কিছূটা বিরতী নিয়ে, কলুর বলদ সাজার জন‍্য ইনস্ট‍্যন্ড এনার্জী। এর থেকে ভালো কিছু আর হতে পারে না। বারে বারে মনে পড়ে পৌড়ির ঘাটে ছুটে যাই। স্মৃতির মণি কোঠায় জীবিত থাকে সব ছবি। কিন্তু মহাদেবের স্থান কি করে যে বিষ্ণুর স্থান হয়ে গেল ভাবা যায় না। তা হলে কি বাংলা শৈব সম্প্রদায় অবলুপ্তের পথে।

          --ঃ  অন‍্যান‍্য দর্শনীয়  স্থান সমূহ।ঃ---
চন্ডীদেবীর মন্দির ঃ-- অষ্টম শতকে শঙ্কারাচার্য‍্য নীলগিরীতে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কথিত আছে শম্ভৃ - নিশম্ভূ বধ করবার সময় এই পাহাড়ে বিশ্রাম করেন। সেই স্মৃতি ধরে রাখতে এই মন্দির  প্রতিষ্ঠা হয়। মন্দিরে দুইভাবে প‍ৌঁছান যায়। এক/ খাঁড়া সিঁড়ি দিয়ে এই মন্দিরে উঠতে হয়। আবার রোপ ওয়ে দিয়ে নেমেও মন্দিরে নামা যায়। 

মনসা মন্দির ঃ-  ঘাটের পশ্চিম দিকে বিল্ব পর্ব্বতে  মন্দির অবস্থিত।

মায়াদেবীর মন্দির ঃ -  সতীর দেহের একটা অংশ এখানে পড়েছিল তাই এখানে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। 

ভীমতোড়া মন্দির ঃ-- ভীম তার গদা এখানে রেখেছিলেন এহং গদা দিয়ে একটি কুন্ড তৈরী হয়। এই কুন্ড দিয়ে গঙ্গা বয়ে যাচ্ছে।

সপ্তঋষি আশ্রম ঃ- ৭ ঋষির তসস‍্য‍ার ফলে এখানে গঙ্গি ৭ ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।

কি ভাবে যাবেন ঃ- হাওড়া থেকে দুন অথবা কুম্ভ এক্সপ্রেস সরাসরি গোয়ায় পৌঁছান যায়। দিল্লী থেকে ট্রেনে গোয়ায় পৌঁছানো যায়।


 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ