Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বুড়িবালামের তীর বাংরিপোসী বারিপদা সিমলিপাশ


 

বুড়িবালামের তীর বাংরিপোসী বারিপদা সিমলিপাশ  ঃ"
খাতড়া হয়ে ঝিলমিল ছুঁয়ে বেলপাহাড়ি হয়ে বহড়াগোড়া। এই পথের দূরত্ব ১২০ কিলোমিটার । তারপর ৩০ কিলোমিটার পর বারংপেসি স্টেশান। যোশিপুরকে সিমলাপালের অভয়ারণ‍্যের প্রবেশ দ্বার বলে। 
আলো আর আধারিতে এক মায়াবী পরিবেশ। দুপাশে গার্ড অব অনার জনপদভূমির বর্ষা স্নাত নির্মল প্রকৃতি। নির্মল প্রকৃতির ছোঁয়ায় মন ভরে যাবে।
বহড়াপোড়া হয়ে বারিংপোশি যাওয়ার পথ হচ্ছে স্বপ্নের।
মন জূড়িয়ে গেল সুন্দরী অরণ‍্যকন‍্যা সিমলিপাল আর বারিংপোসী, ঐতিহাসিক বুড়িবালামের তীর।সীমান্ত বাংলার সবুজ জেলা ঝাড়গ্রামের মত ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলা, রূপে - রসে - বর্ণে অনণ‍্যা। নগর জীবনের কোলাহল মুক্ত এক স্বপ্ন রাজ‍্য। কষ্টকল্পনা বনাম কঠিন কঠোর বাস্তব ভাবনায় বুঁদ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। শাল মহুয়ার জঙ্গলের ফাঁকে ফাঁকে সূর্য‍্যের আলোয় মায়াবি খেলা। মানস পর্দায় ভেসে উঠছে আমার ভালোবাসার সুবর্ণরেখা - বুড়িবালামের মোহনীয়
 রূপ।
পাহাড় - ঝর্ণা - জঙ্গল থ্রি ইন ওয়ান হল বারিংপোসী আর সিমলাপাল। আকাশে মেঘের সোনালি রোদ্দুরের খুনসুটি। দিগন্তের সরলরেখায় সাদা বকের দল। প্রকৃতির ক‍্যানভাসে রিলিফের কাজ। শাল পিয়ালে সাজানো প্রকৃতির সাজঘর। ঋতু ভেদে বদল ঘটে তার রূপে। এখন বাজারি সভ‍্যতা কিছুটা গ্রাস করে নিয়েছে অরণ‍্য তণয়াকে।
এবার যোশিপুর। উঁচু নীচু লাল কাঁকড়ের দুপাশে আকাশ ছুঁয়ে থাকা  শাল পিয়াল আকাশমণির সারি। এ এক প্রকৃতির " গার্ড অব অনার "। সবুজের সমারোহ, এলাকার বাসিন্দদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় মুগ্ধ হতেই হবে। চারিদিক পাহাড় আল ঘণ সবুজের জঙ্গল ছুঁয়ে থাকা। ঝাড়খন্ড আর ওড়িশার প্রকৃতির রূপ অনেকটাই এক। ময়ূরভঞ্জ জেলা জুড়ে অলণ‍্য প্রক‍ৃতি অনন‍্য। সবূজের সমূদ্র হচ্ছে বারিংপোসী। প্রকৃতি প্রমিকদের ভাল লাগবে অবশ‍্যই। প্রকৃতির প্রাধান‍্য পেয়েছে জঙ্গল। সবাই জঙ্গলমহল বলেই জানে ও চেনে। লালমাটির কাঁকুড়ে মায়া মাখান স্বপ্নময় পথ। এই দীর্ঘ সবুজ জঙ্গল ঘিরেই এখানের প্রান্তভূমির সাধারণ মানুষের জীবন - যাপনের এক অনুপম ছন্দ। আদিবাসী মানুষ স্বপ্নের গ্রাম দিয়ে ঘেরা এই এলাকা। উপছে পড়া বন‍্য রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বুকে আছে অতীতের না বলা  বর্ণময় নীরব ইতিহাস। যোশিপুর বারংপোসী থেকে  দূরত্ব ৬৭ কিলোমিটার। স্টেশন ছাড়িয়ে বুড়িবালম নদীর সেতু থেকে সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয় যেন শিল্পীর আঁকা নিখুত ছবি। বুড়িবালামের এক এক জায়গায় তার রূপ ভিন্নতর।
ঠাকুরাণী ছাড়া বুড়াবুড়ি, পাথরকুসি, বিদ‍্যাভান্ডার নামের যত পাহাড়। চারিদিক ঘিরে রেখেছে রুপসী বারংপোসী। গা ছমছম অরণ‍্য পরিবেশ। নানান দিক দিয়ে ব্রাহ্মণকূন্ড যাওয়ার পথ। সে পথ কখনো পিচের কখনো কংক্রিটের, কখন স্রেপ লাল মাটি। এই পথে আছে দুয়ারসিনি মন্দির।  
এখানে দেখা যাবে বাঙ্কাদল ড‍্যাম। বারংপোসী থেকে মাত্র ২৮ কিলোমিটার। পথে দেখা যাবে ময়ূরভঞ্জ জেলার বড় আদিবাসীদের হাট। এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আদিবাসীদের অনেক গ্রাম। যেন পটে আঁকা ছবি। 
সিমলাপাল অভয়ারণ‍্য। নির্মল আকাশ আর সবুজ উপত‍্যকা।
টিলাসহ ছোট ছোট পাহাড় দিয়ে ঘেরা এই এলাকা আছে ছোট ছোট পাহাড়ি গ্রাম। আর যোশিপুর শহরটা বেশ সাজান গোছান। আদিবাসী মানুষ সহজ সরল এবং বর্ণময়।
যোশিপুর বাজারে পাওয়া যাবে জগত বিখ‍্যাত ছানাবড়া। 
যোশিপুর রামতীর্থে, রামচন্দ্র বনবাসে থাকবার সময় পূজো দিয়েছিল। মনমুগ্ধকর খয়রি নদীর তীরে অপূর্ব সুন্দর মন্দির দেখা যাবে। মন্দিরের উল্টোদিকে নদীর ওপারে কুমির প্রজেক্ট। যোশিপুর আর সিমলাপাল থেকে কয়েক কিলোমিটার দুরে। এই ক‍্যাম্পাসের ভিতরই রয়েছে রামচন্দ্রের পায়ের চিহ্ন। 
এবার এখান থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে বাংরিপোসিতে। বাংরিপোসী থেকে বুড়িবালাম নদী। অতীত ইতিহাস যেন জীবন্ত হয়ে উঠবে। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধ লড়াই করতে যেয়ে শহীদ হন জ‍্যোতিন্দ্রনাথ মুখোপাধ‍্যায়। এই স্থান আজও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। 
কি ভাবে পৌঁছাবেন ঃ কলকাতা থেকে বারিংপোসীর দূরত্ব ২০০ কিলোমিটার। সিমলিপালের দূরত্ব ২৯৫ কিলোমিটার। হাওড়া থেকে ধ‍ৌলি এক্সপ্রেসে বালেশ্বর। বালেশ্বর থেকে ছোট গাড়িতে বারিপদা হয়ে বারিংপোসী। ৬৫ কিলোমিটার দূরে যোশিপুর। এখান থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে সিমলাপলি অভয়ারণ‍্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ