Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বড়দি_পাহাড়, মধুপুর - গিরিডি - শিমুলতলা

 ***** মধুপুর - গিরিডি - শিমুলতলা




সালটা ছিল সম্ভবত 1970 কি 1971, বিখ্যাত পরিচালক বাসু চ্যাটার্জি তার খ্যাতনামা সিনেমা চিৎচোর- এর সুটিং-এর জন্য বেছে নিলেন অধুনা ঝাড়খণ্ডের মধুপুরকে। অভিনেতা অমল পালেকার সারাদিন ঘুরলেন চ্যাটার্জি মহাশয়-এর সঙ্গে মধুপুর গিরিডি শিমুলতলার বিভিন্ন জায়গা । সেই সময় ভারতবর্ষের আরো অনেক খ্যাতনামা পরিচালক, এমনকি আমাদের বাঙালির নস্টালজিক রায়বাবুও (সত্যজিৎ রায়) সম্ভবত তার সিনেমার শুটিং সারতেন এখানের বিভিন্ন স্থানে। এরপর তরুণ মজুমদার মহাশয়ের সেই বিখ্যাত সিনেমা দাদারকীর্তি । এবার শুটিং স্থল শিমুলতলা ।
ছোট ছোট টিলা পাহাড়,নদী,ঝর্ণা,জঙ্গল আর অফুরন্ত মুক্ত বাতাস --- এই নিয়েই মধুপুর গিরিডি শিমুলতলা ।
সেকালে আমাদের বাংলার মহাপুরুষগণ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়,জগদীশচন্দ্র বসু, বিদ্যাসাগর মহাশয় প্রায় সকলেই তাদের ছুটি কাটানোর জন্য বাড়ি তৈরি করলেন এই চত্বরে ।
তাহাদের পথ অনুসরণ করে বাংলার জমিদার বাবুরাও নিজেদের ছুটির ঠিকানা বানালেন এই এলাকায় । শীতের শুরুতেই বাঙ্গালী বাবুরা চলে আসতেন তিন মাসের বিশ্রামে, সঙ্গে চাকর-বাকর রাঁধুনি পেয়াদা নিয়ে পশ্চিমের হাওয়া বদলে ।
সেই সব আজ স্মৃতি । কিছুই প্রায় আর নেই । তবে কিছু ভগ্নাবশেষ এখনো বর্তমান । এরইমধ্যে কিছু নতুন করে inaugurated করা হয়েছে নস্টালজিয়া ভরা সেই সময় কে ফিরে পাওয়ার উদ্দেশ্যে। আছে পুরনো মিষ্টির দোকান, প্রাচীন ইদারা,৫০০-শত বছরের পুরনো কালী মন্দির,চার্চ, রাজবাড়ী/ টাইগার কোর্ট ।
52 বিঘা ।।।। (প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য জায়গাটি অনেক আগে থেকেই ভারতের হল্যান্ড নামে পরিচিত ছিল) এখানেই আমাদেরও একটি ছোট আস্তানা আছে, নিজস্ব পৈতৃক বাড়ি। খুব বিলাসবহুল নয়, ৮-টি সংলগ্ন চানঘর সহ শোবার ঘর। কিন্তু আধুনিকতার সকল ব্যবস্থাপনা বিদ্যমান, এয়ার কন্ডিশন, গিজার, ওয়েস্টার্ন টয়লেট ।
অনায়াসে কাটাতে পারেন ৪-৫ দিন।
থাজ্জিবাস হয়ে বালতাল ভ্যালী ও বরফের মাঝে রাত্রিবাস
এবং হাউসবোটে একটি রাত
কাশ্মীর ভ্রমন করেছিলাম গত মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে এবং ভ্রমণ শেষ হল এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে। এই কটাদিন এমন কিছু যায়গায় ঘুরেছি যেখানে আমরা ছাড়া কোনো ট্যুরিস্ট ছিলনা। লতিফ বলল যে ও বুঝতে পারেনি সিডিউল, না হলে রাজী হতনা। যাহক, চেনা অচেনা কাশ্মীরের অন্তিম পর্বে এসে মুক্তকন্ঠে স্বীকার করছি, আমি মুগ্ধ। ভগবানের অনেক আর্শিবাদ ছিল তাই নির্ঝঞ্ঝাটে ঘুরতে পেরেছি এবং অসম্ভব সুন্দর কিছু যায়গা দেখেছি।

থাজ্জিবাস হল ভারতবর্ষের এমন একটি গ্লেসিয়ার যা খুব কাছ থেকে যে কোনো লোক দেখতে পারে। আমার হোটেল ছিল থাজ্জিবাসের খুবই কাছে তাই দারুন লেগেছে।
থাজ্জিবাসের ভিউ পয়েন্ট সোনমার্গ থেকে মাত্র তিন কি.মি দূরে অবস্থিত। পনিতে করে বা পয়দল যেতে পারেন। প্রথম দিকটা একটু কঠিন তার পর ঠিকঠাক। ইচ্ছে করলে আরও কিছুটা এগোনো যায়। সে ক্ষেত্রে সারাদিনটা লাগবে। হেঁটে গেলে ঝুলি ভর্তি করে ফিরবেন।
বালতাল সোনমার্গ থেকে প্রায় 15km দূরে অবস্থিত। শুনশান রাস্তা ধরে চললাম। এপথে আসতে গেলে অন্য গাড়ী ধরতে হবে। 2000 টাকা নিল তবে ও আমাকে ঐ বরফের চড়াই পার করে নিয়ে গিয়েছিল সিন্ধ নালার ধারে। যেখানে দাঁড়িয়েছিলাম তার পাশেই গভীর খাদ। সেখানে বরফ কেটে চলেছে সিন্ধ নালা।
বালতাল ভ্যালী এখন সাদা ধপধপে। হেলিপ্যাড চিনতে হবে ফেনসিং ও সাইনবোর্ড দেখে। ফিরতি পথে একটি জমজমাট লেক ও পাহাড়ী ঝর্না দেখলাম। হোটেলের জানলা দিয়ে চমৎকার সূর্যাস্ত দেখলাম, গলানো সোনা কেউ যেন ঢেলে দিল পাহাড়টার মাথায়। হোটেল ইম্পেরিয়াল রিসর্ট সদ্য খুলেছে শীতঘুম কাটিয়ে। ব্যাবস্থাপনা ভালো এবং রাস্তার একদম ধারে।
ব্রেকফাস্ট সেরে আবার থাজ্জিবাসের সামনে। মালপত্র নিয়ে বেরিয়েছি। ট্যুরিস্টরাএখনও পৌঁছাননি, তাই লোকাল লোকেরা বিরক্ত করছেনা। প্রানভরে ছবি তুলে এগোলাম, পথে সিন্ধনালার জন্য দাঁড়াতে হল। অবশেষে শ্রীনগরে পৌঁছে দেখি বিষম ব্যাপার। জন বিস্ফোরণ হয়েছে আজ তাই বুলেভার্ড রোড ওয়ানওয়ে এবং এন্ট্রপয়েন্টগুলোতে কাশ্মীরী পুলিশের ব্যাস্ততা।যাই হোক কোনরকমে বদিয়ারিপ্যালেসে পৌঁছালাম বামাল সমেত। একঘন্টার শিকারা রাইড ফ্রি ছিল। তিনকামরার হাউসবোট সঙ্গে ড্রইং ও ডাইনিং হল। আরও দুটো ফ্যামিলি ছিল।
কাশ্মীরের উপাদেয় মাংশ ও রুটি দিয়ে ডিনার। পরদিন ভোরে শিকারা ধরে ডাললেকের পারে। ওখান থেকে এয়ারপোর্ট এবং শেষমেশ জানালা দিয়ে পীরপঞ্জাল রেঞ্জ দেখলাম। মধুরেন সমাপয়েৎ।

****বড়দি_পাহাড়
পাহাড়, জঙ্গল আর নদীর মেলবন্ধনে সাজানো বাঁকুড়ার বড়দি পাহাড় পশ্চিমবঙ্গের ভ্রমণ মানচিত্রে অপেক্ষাকৃত নতুন সংযোজন। শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের সমাহার - ই নয়, বড়দি পাহাড়ের ইতিহাস জড়িয়ে আছে ১৮ শতকের চোয়াড় বা চুয়াড় বিদ্রোহের সাথেও। ব্রিটিশ শাসন ও স্থানীয় জমিদারদের করের অত্যাচারের বিরুদ্ধে, রাণী শিরোমণি এবং দুর্জন সিংহের নেতৃত্বে এই এলাকার মূলনিবাসী স্বাধীনতাপ্রিয় অধিবাসীদের বিদ্রোহ নাড়িয়ে দিয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত। অপেক্ষাকৃত উঁচুতে স্ট্র্যাটেজিক লোকেশনের কারণে বড়দি পাহাড় হয়ে উঠেছিল বিদ্রোহীদের ঘাঁটি।
করোনা এবং সরকারী বাধানিষেধের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহান্তের ছুটিতে আমাদের গন্তব্য ছিল সেই বড়দি পাহাড় ইকো রিসোর্ট। হুগলি থেকে দিল্লী রোড - তারকেশ্বর - আরামবাগ - কোতুলপুর - বিষ্ণুপুর বাইপাস - সারেঙ্গা হয়ে বাঁকুড়ার পি মোড়। সেখান থেকে ডানদিকে অপেক্ষাকৃত সরু গ্রাম্য রাস্তা ধরে আরো কিলোমিটার ১২ র মত দূরত্বে বড়দি পাহাড়। শেষ রাস্তা টুকু অবশ্য স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞেস করে আসাই ভালো। গুগল বাবাজীবনের কথায় আমরা দুবার ভুল বন্ধ রাস্তায় ঢুকে পড়েছিলাম। যাওয়ার পথে আমরা ব্রেক নিয়েছিলাম রামকৃষ্ণ - মা সারদার স্মৃতি বিজড়িত কামারপুকুর ও জয়রামবাটীতে ( পরের দিন থেকেই দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ হয়ে যায় )।
সরকারী পৃষঠপোষকতায় বড়দি পাহাড়ে গড়ে উঠেছে ইকো রিসোর্ট। ডাবল ও ফোর বেডেড রুম ছাড়াও আছে একটি পার্ক, খাওয়ায় জায়গা, পার্কিং। ঘরগুলোর সাইজ একটু ছোট হলেও রিসর্টের কর্মচারীরা তাদের আন্তরিকতা আর প্রম্পট সার্ভিসের মাধ্যমে ওইটুকু মিটিয়ে দেন। খাবারের স্বাদ যথাযথ।
বড়দি পাহাড়ে কি করবেন? ভিউ পয়েন্টের নির্জনতায় বসে দেখতে পারেন নিচে কংসাবতীর অববাহিকা, অল্প হাইক করে উঠে যেতে পারেন পাহাড়ের মাথায় শিব মন্দিরে, জঙ্গলের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে শুনতে পারেন পাখির ডাক। শহরের ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে দুদিনের বিরতির উপযুক্ত জায়গা বড়দি পাহাড়। সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন মুকুটমনিপুর, গনগনি এবং বিষ্ণুপুর। এখন অবশ্য বন্ধ এগুলো।
প্রসঙ্গত বলে রাখি, আমরা গিয়েছিলাম নিজস্ব গাড়িতে, মাস্ক স্যানিটাইজার সর্বদা ব্যবহার করেছি, খাবারও খেয়েছি ঘরে বসে, ভিড় এড়িয়ে চলেছি যদিও বেশীরভাগ জায়গাই খালি ছিল, যাওয়ার আগে এবং ফিরে এসেও কেউই সিম্পটমেটিক হইনি। গাছ লাগান, জল বাঁচান। বেড়াতে গিয়ে প্লাস্টিকের প্যাকেট বা বোতল ফেলে আসবেন না। বড়দি পাহাড়ের আরো ছবি দেখতে উৎসাহী হলে আমাদের ফেসবুক পেজ বা একই নামের ইনস্টাগ্রাম পেজ দেখতে পারেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ