Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

নিমপীঠ কৈখালি ঘুরতে চলুন

নিমপীঠ কৈখালি ঘুরতে চলুন


কূলকিনারাহীন মাতলা নদী আর বাদাবনের জঙ্গলের কোলে নির্জনে দুদিন কাটাতে আদর্শ জায়গা নিমপীঠ-কৈখালি। সুন্দরবনের এই বাদাবনে রামক‍ৃষ্ণ মিশন জনহিতকর কাজে ও শিক্ষায় দেওয়ার কাজে ব্রতী হয়েছে। হাতে দুদিন সময় নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হবে মাতলার রূপ দর্শন করতে।  পাশাপাশি পাখিদের কুজন, অবিশ্রান্ত ডাক, খালে সাপলা-সালুকের সম্ভার,যান্ত্রিক মানসিকতা কিছু সময় দূরে চলে যাবে।

নিমপীঠে পৌঁছে খাবারের কুপন সংগ্রহ করতে হবে আশ্রম অফিসে থেকে। এখানে দেখার জন‍্য আছে অপূর্ব সুন্দর ফুলের আর নানবিধ গাছের সমারোহ।  রামকৃষ্ণ  মন্দির থেকে হেঁটে মা সারদা দেবীর মন্দির। মেয়েদের শিক্ষালয় ও হোষ্টেল লাগোয়া মন্দির। মেয়েদের হোষ্টেলে ডুকবার অনমতি ছাড়া প্রবেশ নিষধ। মন্দির চত্বর ঘুরে দেখা যাবে। গাছে গাছে সজীবতা আপনাকে মুগ্ধ করবে। আশ্রমের বহুবিধ কর্মকান্ড দেখতে ভালোই লাগবে। দুপুরের মধ‍্যে নিমপীঠে ফিরে এলে ১২ টায় মধ‍্যাহ্ন ভোজন ব‍্যাবস্থা হতে পারে। 

দুপুরের প্রসাদ লাঞ্চ সেরে বিশ্রাম। বিকালে বেরিয়ে পড়া যাবে মাতলা নদীতে নৌকা সফরে বেরিয়ে পড়ুন। হামেসায় নৌকা যেতে পারে সুন্দরবনের বাঘ দর্শনে। যদি সুন্দরবনের পথে লাল সূর্য‍্য অস্ত। শুনবেন পাখির কুজন। 

এবার মাতলার বুক চিরে পৌঁছান যাবে ঝাড়খালিতে। এখানে দেখা যাবে প্রজাপতিদের সংগ্রহশালায় হরেক কিসিমের প্রজাপতি। 

প্রজাপতির অপরূপ ছন্দে ওড়াউড়ি দেখে খুবই মুগ্ধ হবেন আপনি। আবার বন‍্যপ্রাণী যেমন বাঘ, শিয়াল, সাপ, খরগোশ ইত‍্যাদি  রয়েছে। মাতলার পাশ দিয়ে গ্রামগুলি ঘোরা যেতে পারে।

কীভাবে যাবেন :-- শিয়ালদহ সাউথ থেকে ট্রেনে জয়নগর-মজিলপুর স্টেশানে নেমে অটোয় পৌঁছে যাবেন নিমপীঠ আশ্রমে। থাকা খাওয়ার ব‍্যাবস্থা আশ্রমেই আছে।

 

 

কক্সবাজারে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমণ্ডিত নতুন পর্যটন স্পট: 

কক্সবাজারে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমণ্ডিত নতুন পর্যটন স্পটে স্থান পেয়েছে “নিভৃতে নিসর্গ”। চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নস্থ মাতামুহুরি নদীর কোলঘেঁষে এই পর্যটন স্পটের জন্ম। দীর্ঘদিন ধরে অঘোষিত ছিল সম্ভাবনাময় এই পর্যটন স্পট। কোন ধরণের পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় এই পর্যটন স্পটটি নিভৃতে রয়ে যায়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নস্থ মাতামুহুরি নদীর কোলঘেঁষে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমণ্ডিত নতুন পর্যটন স্পট “নিভৃতে নিসর্গ” এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়েছে। দু’পাশে সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝ দিয়ে আকাবাকা নদীপথ বয়ে চলা এই নিভৃত পর্যটন স্পট। নৌকাভ্রমণে কিছুদূর গেলেই চোখে পড়বে শ্বেত পাথরের বিশাল পাহাড়। গত ২৬ ডিসম্বর কক্সবাজার জেলা প্রশসাক মো: কামাল হোসেন এই নিভৃতে পর্যটন স্পট ঘোষণা করেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অপরূপ শোভা দর্শনে সকলকে আমন্ত্রণও জানান। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানান, কক্সবাজারের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা সকল সৌন্দর্যের আধারে পর্যটন বিকাশে জেলা প্রশাসনের নিরবধি প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিপুল সম্ভাবনাময় পর্যটন খ্যাত হিসেবে চিহ্নিত দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটকের কাছে প্রতিনিয়ত আকর্ষণ করছে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্থানগুলো। যাতায়াতের অসুবিধা, অনুপযোগী চলাচল ব্যবস্থা, ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফেলতি, স্থল ও জলপথের নানা ভোগান্তি, দর্শনীয় স্থানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকা ও প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে থাকাসহ নানা কারণ উল্লেখ থাকলেও কক্সবাজারের প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ করে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত পর্যটন স্থান প্রাচীণ ঐতিহ্যগুলো।

জানা যায়, পর্যটন এলাকা হিসেবে খ্যাত কক্সবাজার জেলায় দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত দর্শন ছাড়াও অপরূপ দর্শনীয় স্থানের তালিকায় রয়েছে সদর উপজেলার মাহাসিংদোগ্রী বৌদ্ধ মন্দির, ইছাখালী নদীর উপর স্থিত শহরের খুরুশকুল ইউনিয়নে মনোমুগ্ধকর চৌফলদন্ডী-খুরুশকুল সংযোগ সেতু, ইসলামপুর ইউনিয়নের ডুলাফকির মাজার, চিংড়ি রপ্তানী জোন, লবণ রপ্তানী জোন, ঈদগাঁও চরপাড়া রাবার ড্যাম, শহরের বার্মিজ মার্কেট, অগ্গমেধা ক্যং, হিলটপ সার্কিট হাউজ রোডের রাডার স্টেশন, বিজিবি ক্যাম্প স্থিত আজগরি মসজিদ,  উখিয়া উপজেলার পাতাবাড়ী বৌদ্ধ বিহার, ইনানী সী-বীচ, কানা রাজার সুড়ঙ্গ, হিমছড়ির ঝর্না, কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ সমূদ্র সৈকত, কুতুবদিয়ার বাতিঘর, মহেশখালী উপজেলার জেটি, আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া দ্বীপ, চকরিয়া উপজেলার কাকারার শাহওমর মাজার, বরইতলী ইউনিয়নের মনোমুগ্ধকর গোলাপ বাগান, মগনামা ইউনিয়নের মাতামুহুরী নদী, বরইতলী ইউনিয়নের মৎস্য খামার, ডুলাহাজারার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, রামু উপজেলার রামকোট বৌদ্ধ বিহার, লামারপাড়া বৌদ্ধবিহার, রাবার বাগান, রামকোট মন্দির, টেকনাফ উপজেলার ঊনবিংশ শতাব্দীর ইতিহাসের প্রেমের নিদর্শন স্বরূপ, মাথিনের ক‚প, সেন্টমাটিন প্রবালদ্বীপ, ছেঁড়াদ্বীপ সহ অসংখ্য পর্যটন স্পট। এরমধ্যে নতুন করে যুক্ত চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নস্থ মাতামুহুরি নদীর কোলঘেঁষে এই পর্যটন স্পট “নিভৃতে নিসর্গ।

কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন জানান, কক্সবাজার দেখার মতো অনেক কিছু আছে, যা পর্যটকদের কাছে স্থানগুলো অজানায় থেকে গেল। ফলে পর্যটকরাও অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনায় কক্সবাজারে বেড়াতে এসে সন্তুষ্ট হতে পারছেনা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রচার প্রসার করে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারলে পর্যটন সমাগম বাড়তো এবং পাশাপাশি সরকারী খাতেও আয় হতো বিপুল পরিমান রাজস্ব। এক্ষেত্রে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিৎ। স¤প্রতি কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কর্তৃক চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নস্থ মাতামুহুরি নদীর কোলঘেঁষে এই পর্যটন স্পট “নিভৃতে নিসর্গ” পর্যটন খাতকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল . 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ