Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

সুখরিয়া ও কাঁথাধারী - বৈষ্ণব প্রেমে পরিপূর্ণ দুই গ্রাম


সুখড়িয়া ঘুরতে মন চাইবে । ব্যান্ডেল কাটোয়া লুপ লাইনে একটি নির্জন নিশ্ছিদ্র নৈঃশব্দ, স্টেশানের নাম সোমারা বাজার।সোমরা-সুখড়িয়া পাশপাশি এক অনন্য গ্রাম দুটি। ইতিহাসের পাতায় গ্রাম দুটির নাম জুড়ে আছে বৌদ্ধ যুগ থেকে। এক সময় বজ্রযানী বৌদ্ধ তান্ত্রিকদের সংখ্যাধিক্য ছিল। তারপর মধ্যযুগে বাংলা সমাজজীবনে এল পরিবর্তনের প্লাবন। বহু বজ্রযানী বৌদ্ধরা ফিরে এসে হিন্দু ধর্মে যোগ দিলেন। যেখানে যেখানে বৌদ্ধ বিহার ছিল, সেখানে নির্মাণ হলো কালীক্ষেত্র। তাছাড়া তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান হিসাবে লাভ করল বিশেষ পরিচিতি। আবার কালের নিয়মে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পরবর্তীকালে এসব স্থানে গড়ে উঠেছে কালীমন্দির। যেমন সুখড়িয়ায় আনন্দময়ী মন্দির। মিত্র-মুস্তাফিদের তৎপরতায়। মিত্র-মুস্তাফিদের আদি নিবাস নদীয়ার বীরনগরে। 
বীরনগর থেকে গঙ্গা পেরিয়ে ১৭০৮ খ্রিষ্টাব্দে সুখড়িয়ায় আসে। তারপর জমিদার বীরেশ্বর মুস্তাফি ১৮১০ সালে তৈরী করেন সুখড়িয়ায় বিখ্যাৎ আনন্দময়ী মন্দির। স্থাপত্য ভাস্কর্যের দিক দিয়ে এটিকে বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মন্দির বলা হয়। মন্দিরটি কুটির দেউলের পর্যায়ে পড়ে। মধ্যযুগে বাংলার মন্দির স্থাপত্যে এক নতুন শৈলীর সংযোজন হয়েছিল। মন্দিরের ছাদ খড়ের চালের মতো বাঁকানো -- দোচালা, চৌচালা, আটচালা আকৃতির। কুঁড়েঘর থেকে পাকা বাড়িতে থাকলেও ভুলতে পারনি পুরনো দিনের কথা। আর টেরাকোটা অলঙ্কার, ভাস্কর্যে টেরাকটা ধারার যুগলবন্দি এক সময় বাংলার মন্দির শিল্পের এক বিশেষ মাত্রা এনে দিয়েছিল। সেই সময়কার অনবদ্য সৃষ্টি সুখড়িয়ার দেবী মা আনন্দময়ীর মন্দির। চাল ঘিরে মন্দিরের তিনটি স্তর। প্রথম স্তরে-ছাদের তিনটি স্তরে তিনটি করে মোট বারটি স্তম্ভ। দ্বিতীয় স্তরে আটটি,তৃতীয় স্তরে চারটি ও মধ্যস্থলে বারটি শিখর বা স্তম্ভ অবস্থিত। বারচালা, পঁচিশ চূড়া বিশিষ্ট মন্দির সারা দেশে মাত্র তিনটি কালনার বালাজি ও কৃষ্ণচন্দ্র এবং সোনামুখির শ্রীধর মন্দির। সারবন্দী কালি, তারা, অন্নপূর্ণা,দূর্গা, জগদ্ধাত্রি, রাধাকৃষ্ণ, রাম-সীতা, মহাবীর ইত্যাদি দেবদেবীকে সামনে রেখে টেরাকোটার কাজ যেন জীবন্ত। বুঝাই যায় না এই শিল্পকর্ম দেড়শ বছর আগের। এরপর ঠিক গঙ্গার পাশেই নিস্তারীনি কালি মন্দির। কাছেই হরসুন্দরী মন্দির। মুস্তাফিদের নির্মিত কালি মন্দির। মন্দিরটি ছিল নবরত্ন। নদীর পূর্ব পাড়ে নদীয়ার শান্তিপুর, বৈষ্ণবীয় প্রেমভক্তিতে ডুবুডুব। চারিদিক বৈষ্ণব ভাবধারার মাঝে যুগযুগ ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে শাক্ততান্ত্রিক সাধনক্ষেত্র সুখড়িয়া।। কীভাবে পৌঁছাবেন :-- হাওড়া থেকে বাজার-সাউ। শিয়ালদহ থেকে সালার লোকালে সোমরা স্টেশান। স্টেশান থেকে চুক্তি ভাড়ায় সারাদিন ঘুরে রাতের ট্রেনে ফিরে আসা যাবে।


 চৈতন‍্যদেবের রাত কাটানো কাঁথাধারী আশ্রমে একবার বেড়িয়ে এলে খুব ভালো লাগবে।

বরানগর থেকে কিছু দূরে একটা সাইন বোর্ড দেখতে পাবেন, লেখা আছে বোর্ডে ' কাথাধারী আশ্রম'। এখানে মহাপ্রভূ শ্রীচৈতন‍্য দেব এক রাত  কাটিয়ে ছিলেন। যাবার সময় তাঁর কাথাখান ভুল করে ফেলে গিয়ে ছিলেন তাই এলাকা প্রসিদ্ধ হয়ে 'কাথাখান' নামে। কাছেই পাঠাবাড়ি।
এমনি এক সকালে মহাপ্রভূ এলেন রামকেলিতে। মালদা থেকে গৌড় যাবার পথে পড়বে এই জনপদ। এই গ্রামে থাকতেন সনাতন, রূপ ও সনাতন গোস্বামী। এ গ্রাম এক তীর্থভূমি বহু ধর্মপ্রান মানুষ আসেন সব সময়। 
নৈহাটির অমর ও সন্তোষকে মহাপ্রভূ নাম দেন রূপ - সনাতন। তাঁদের ঠাই হয়েছিল বর্ধমানের মাধাইতলায়। মাধাইতলায় পূর্ণাথীরা আসেন। ১০০০০  দশ হাজার বছর একটানা কীর্ত্তন চলবে অতিমারী-বন‍্যা-খরাও এই সংকীর্ত্তন ধারাবাহিক চলে আসছে। এখানে থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত আছে।
রামকেলি  এখানে বর্তমান আছে রূপ সাগর দিঘী। জীবের নির্মিত শ‍্যামকুন্ড,ললিত কুন্ড আর বিশাখা কুন্ডু। এই সব কুন্ডের জল বৈষ্ণবদের কাছে খুবই পবিত্র। তাই রাম কেলির অপর নাম গুপ্ত বৃন্দাবন। জ‍্যৈষ্ঠ মাসের সংক্রান্তির দিনে মহাপ্রভূর আগমণের দিন অর্থাৎ মহাপ্রভূর আগমণের দিন স্মরণ করে বিশাল মেলা হয়। একে বলা হয় চৈতন‍্যদেবের সহচরি অর্থাৎ মন পছন্দ সঙ্গী বেছে  নেওয়া যায়। এই  বৈষ্ণবতীর্থ ঘুরে খুব ভালো লাগবে।
কিভাবে যাবেন 
গৌড় এক্সপ্রেস ধরে মালদা টাউন। তারপর ট্রেকার-ম‍্যাজিকে পৌঁছে যান রামকেলিতে। মালদহ শহরে প্রচুর লজ এবং হোটেল আছে সাধ‍্যের মধ‍্যে হয়ে যাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ