Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

কাটোয়া শহর ঘিরে অনেক দেখার আছে, চলুন যাই

কাটোয়া শহর ঘিরে অনেক দেখার আছে, চলুন যা



পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জেলা বর্ধমান এখন পূর্ব বর্ধমান জেলা হয়েছে। এই জেলার মহাকুমা শহর কাটোয়া। প্রায় ৫০০ বছরের এই পুরতন শহরের আশেপাশে ছড়িয়ে ছাটিয়ে আছে বহু স্থান, যা অনায়াসে পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে নিতে পারে

হাওড়া অথবা শিয়ালদহ থেকে ট্রনে কাটোয়া পৌঁছান যায়। সময় লাগে চার ঘন্টা মত। কাটোয়ার ইতিহাসে জানা যায় এইখানেই মহাপ্রভূর দীক্ষা গ্রহন হয়। নবদ্বীপ থেকে নিদয়ার গঙ্গা ঘাট পেরিয়ে কাটোয়া পাড়ায় মস্তক ্যাড়া করেন এবং সন্ন্যাস গ্রহন করেন

গঙ্গা-যমুনা-শিবা নদীর সঙ্গমস্থলের অপূর্ব দৃশ্য বর্ণনাতীত। আর এই সঙ্গমস্থলের উপরেই শহরের সর্বাধুনিক অতিথিশালা " শ্রাবণী" পৌরসভার গর্ব এই পান্থনিবাসটি। সিঙ্গেল সিটেট, ডবল সিটেট ঘর আর আছে ডার্মেটরী। এপাশে গঙ্গা ওপারে অজয় কুলকুল শব্দে বইবে আর আপনি অনুভব করবেন এই মহামিলনের অব্যর্থ আকর্ষণ। এই স্থানটির নাম 'তেমনি' বা তেমোহনা। তিনটি নদীর মোহনা। পুবে দিগন্ত বিস্তৃত বনরাজি আর উত্তরে শাঁখাই ঘাট। এই শাঁখাই ঘাটের আলাদা গুরুত্ব আছে পৌরাণিক উপকথায়। জগৎমাতা দুর্গা শাখা পরেছিলেন এখানে। এখানে শঙ্খেশ্বরীর পুরনো মন্দির বিদ্যমান। তেমনির ধারে গঙ্গার তীরে, শিবলুনের দুলালবাবা একটি আধুনিক মন্দির বানিয়েছেন। মন্দিরে থাকা খাওয়ার ্যবস্থা আছে। এই শাঁখাই ঘাটের উজানে তিন কিমি দূরে অবস্থিত এনায়েৎপুরের কালিবাড়ী। প্রায় 'য়েকশ বছরের এই কালি মূর্ত্তীর ঐতিহাসিক শিল্পমূল্য অপরিসীম। এক কিমির মধ্যে দেখতে পাবেন উদ্ধারণপুরের ঘাট, যা অবধূতের বিখ্যাৎ উপনাসের পটভূমি। মাত্র কয়েক ঘন্টায় একটা নৌকায় ঘুরে আসতে পারেন তিনটি জায়গায়

দ্বিতীয় দিন - একটা গাড়ি করে বেরিয়ে পড়ু, মহাকব্য রচয়িতা কাশীরাম দাসের জন্মভূমি সিঙ্গি গ্রামে।  পাশেই কবি কালিদাস রায়ের জন্মভূমি। কাটোয়ায় কবির নামে একটি বিদ্যালয় আছে। কাটোয়া থেকে চলে আসুন মাথরুন। মাথরুন হাইস্কুলের ছাত্র ছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলাম

আর একটু এগুলেই দেখা যাবে  ৈবষ্ণব কবি কুমুদরঞ্জনের বাড়ি

 " যার ভাঙন ধরা অজয় নদীর বাঁকে।জল যেখানে সোহাগ ভরে স্থলকে ঘিরে রাখে।

্যাঁ কুমুদরঞ্জনের গ্রাম অতি সন্নিকটে। এখানে কুনুর নদী আনন্দে মিশেছে অজয়ের সাথে। কবির সময়কার বটগাছ এখনো দাঁড়িয়ে আছে। সাক্ষী অজয়ের তীরে'বনতলসি' এরপর মোঘলদের কোট বা ঙ্গলকোট। পোড়া 'চাল' আর 'সোনার কুচি' রহস্য আছে এখানে। স্থানীয় মানুষের কথা বললে যানা যাবে। বৃষ্টি পড়লে চকচকে বালিপথে স্বর্ণদানা দেখতে পাবেন। 

এবার কাশীরাম সেতু পেরিয়ে পৌঁছে যান কেতুরাজার রাজধানী কেতুগ্রামে। এখান দেখতে পাবেন 'ওষ্টহাস' মহাপীঠ। দেবী সতীর ঠোঁট পড়েছিল এখানে। এখানে থাকা খাওয়ার ্যাবস্থা আছে। শিবা নদীর তীরে বহুলাক্ষির মন্দিরটি অবশ্যই দেখে নেবেন। কেতুগ্রামের পশ্চিমে তারাশংকরের দেশ। এখানে অনায়াসে পেয়ে যাবেন 'পাচুন্দীর  হাট'-এর পাচুন্দীকে। আরো পশ্চিমে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈষ্ণব পদকর্তা জ্ঞানদাসের কান্দারগ্রাম। এবার কাটোয়ায় ফিরে এসে দেখতে যান গঙ্গাটুকরি গ্রামে যেখানে রঙ্গব্যাঙ্গোর কথাকার ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যয়ের বাড়ি

কাটোয়ার অভ্যন্তরে দেখে নিন মীরকাশেমের দূর্গ। মিশনারী দ্বিতীয় উইলিয়াম কেরির সমাধীস্থল। সাহেববাগানের পাশে মাধাইতলার ছায়া সুনিবীড় শিতলকুঞ্জ। এখান ১০০০০বছরে জন্য নাম সংকীর্ত্তন চলছে। পাশেই জাজিগ্রামে দেখতে পাবেন চৈতন্যলীলা। এরপর শ্রীপাট শ্রীখন্ডের মহাত্ম্য। সবই বৃহতর কাটোয়ার দর্শনীয় স্থানগুলি

কীভাবে পৌঁছাবেন:-- হাওড়া থেকে ১৪৪ কিমি দূরত্বে কাটোয়া। কাটোয়া লোকাল এক ঘন্টা পরপর। শিয়ালদহ থেকে কামরুপ,তিস্তা-তোর্সা, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস ট্রেন পাওয়া যাবে। সময় ঘন্টা মত। বর্ধমান অথবা কৃষ্ণনগর থেকে বাসে যাওয়া যায়। 

থাকা - খাওয়া :-- শ্রাবণী অতিথি নিবাস, পুরসভার লজলজ অশোক সহ বহু হোটেল লজ পাবেন

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ