Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

চলুন যাই কমলালেবুর দেশ সিটং - এ

 কমলালেবুর দেশে সিটিং- চলুন যাই



কমলালেবুর বাগান দেখতে মনস্থির করে ট্রেনের টিকিট কেটে ফেল্লাম। কোন হোটেল, হোম স্টে বুকিং ছাড়াই ওঠে পড়লাম তিস্তা-তোর্ষায়। শেষ রাতে পৌঁছে গেলাম নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশানে। সকালের আলো ওঠার অপেক্ষায় ওয়েটিং রুমে বিশ্রাম। তিন হাজার টাকার ভাড়া সুমো শেষমেশ দু হাজারে ঠিক করে উঠে পড়লাম আমরা চার জন। গোন্তব্য 

'্যালি অব অরেঞ্জ' কমলালেবুর বাগান ঘেরা সিটং-এ। সিটং আছে দুটি - সিটং- ভাগ করা। আরো পরে সিটং- তৈরী হয় প্রশাসনিক কাজে সুবিধার জন্য। যাইহোক ঘন্টা গাড়ি জার্নির পর আমরা পৌঁছে গলাম সিটং-এ। নেমে পড়লাম কমলালেবু বাগানে।  সবুজের মাঝে থরে থরে সাজান কমলালেবু। মন চাইছিল লেবুগুলিকে আদোর করতে, ছুঁয়ে দেখতে। কিন্তু লেবু তোলা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। তাই দেখে চোখের শান্তি। 

ঘুরতে ঘুরতে দুপুর হয়ে গেল। খেতে হবে, থাকতে হবে। ভাগ্নে সুমন একটা খোঁজ নিয়ে এল। ঠিক অরেঞ্জ ্যালি লাগোয়া শান্তা ছেত্রীর হোম  স্টে। ভদ্রমহিলা হাইস্কুলের শিক্ষিকা। দোতলা বাড়ি। ওপরের তলায় আমাদের বরাদ্দ হলো। থাকা খাওয়া ১২০০ টাকা। জানলা খুলে দিতেই  দুধ সাদা পর্বতমালা আমাদের ডাকছে, এসো এসোগো আমার কাছে। ঘন্টা দেড়েক এর মধ্যে লাঞ্চ রেডি। ডাল-ভাত, সুক্ত, ওমলেট, পাঁপড়, চাটনি। ভরপেট খেয়ে নিয়ে একটু বিশ্রাম  

ঠিক তিনটেয় আসেপাশের এলাকা দেখতে বেরিয়ে পড়লাম। সিটং-এর পাশেই 'সেলফো' বাজার। কার্শিয়াং-এর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিকভাবে উন্নত জায়গা। সেবক থেকে শুরু করে কার্শিয়াঙের আগে বাগোড়া পর্যন্ত সিটং ছড়ানো। সেলফো বাজার বড় এলাকা। এখানে হোমস্টে আছে। পাহাড়ি এলাকা হলেও সেলফো বাজার খুব বেশ জমজমাট আর রাজনৈতিক চর্চাও বেশ উন্নত। সব পাহাড়ি এলাকার মত সন্ধ্য   টা থেকে সকাল টা অবধি রাস্তাঘাট একদম শুনশান

বাজার পাহাড়ি মানুষ বিভিন্ন পসরা নিয়ে বসেছে। আছে মিষ্টর দোকান। মর ষ্টলে খুব ভীড়। আমরা ফুলকপির গরম পকোড়া আর চা খেয়ে বাড়িতে এলাম, সন্ধ্যা নেমে এল, বনবস্তি এলাকায় জোনাকির মিটিমটি আলো আর ঝি ঝির ডাক নেশা ধরিয়ে দেয়। রাত্রের ডিনার শব্জী রুটি চিকেন, মিষ্টি। দশটায় নিস্প্রদীপ। 

পরদিন ভোর পাঁচটায় উঠে পাশেই পাহাড়ের বুক চিরে সূর্য্যোদয় দেখে বিস্মিত হতে হয়ছাদেই কাটালাম ভোরটা।  এবার ব্রেকফাষ্ট নিয়ে বেরিয়ে পড়ার পালা। শান্তি একটা ট্রেকার ঠিক করে দিল সারিদিনের জন্য। ড্রাইভার রামরাজ। অল্প বয়েস, স্মার্ট। প্রথম নিয়ে গেল 'ফুলঝাড়ু' ক্ষেতে। ফুলঝাড়ু মানে যা দিয়ে আমরা ঝাড় দিই। এখানে চারিদিক শুধু ফুলঝাড়ুর ঝোপ। আপনা-আপনি গাছ জন্মায় এখানে বড় হয়। জমির মালিক লেবার লাগিয়ে ঝাড়ু বানিয়ে শিলিগুড়ি চালান করে। দু একজন চাষিও ক্ষেতে পরিচর্যা করতে দেখা গলো। 

সিটং- অনকগুলি পুকুরি বা পুকুর হচ্ছে মূল নাম। নামথিঙ পুকুরে এক ধরনের সরিসৃপ দেখা যায়, নাম  ্যালামান্ডার। এই স্থান অর্থাৎ মিরিকের পুকুরিতে দেখা যায়। দেখলাম আমরা সবাই। এরা -১০ ইঞ্চি লম্বা আর চওড়ায় হবে -- ইঞ্চি। পুকুরির জল সুকিয়ে গেলে এই ্যালামান্ডার মাটির খুব গভীরে চলে যায়। বর্ষাকালে এখানেই ডিম পাড়ে। সরকার এদের সংরক্ষণের ্যাবস্থা করেছে

এবার গন্তব্যস্থল ' অহলদারা' এখান অনেক আশ্চর্য্য বিস্ময় অপেক্ষা করছিল। এক নৈসর্গিক প্রাকৃতিক অসম্ভব সুন্দরতম দৃশ্যপট। অহলদার শুধুই দেখতে রমণীয় নয় গুণও আছে। যার জন্য অহলদার জগত বিখ্যাৎ।  এখানে দেখতে পাবেন সিঙ্কনা গাছ। এই সিঙ্কনা গাছ থেকে জীবনদায়ী ওষুধ তৈরি হয়। এই গাছ রোপন করলে বছর পর ফসল উৎপন্ন হয়। গাছের  ডাল  পাতা  ছাল দিয়ে তৈরি হয় ওষুধ। ভারতবর্ষের বিভিন্ন কারখানায় পৌঁছে যায়।  অহলাদার বাঙালীর জন্য একটি খুব পরিচিত নাম। ভিউ পয়েন্টে দাঁড়ালে দেখা যাবে এক চমকদার দৃশ্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের নাক 'টেগার নোজ' পর্বত শ্রেণি আর নদীর মধ্যেই মিলে এক অপরূপ দৃশ্য। 

এবার আমরা গেলাম সিটং-- সবচেয়ে পুরাতন বৌদ্ধ মঠ। নিদারুন নৈসর্গিক দৃশ্য। এত নিরিবিলি বলে বোঝান যাবে না। দেশ বিদেশের বৌদ্ধ ভিক্ষুকরা এখানে আসেন। আমরাও খুব আনন্দে ঘুরলাম


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ