Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

জটার দেউল দর্শণীয় স্থান দেখতে চলুন

জটার দেউল দর্শণীয় স্থান দেখতে চলুন

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার যে প্রাচীন সমাজ চিত্র প্রত্ন গবেষকদের কাছ থেকে জানা যায়, তা মুলত আদিগঙ্গা জুড়ে পরিব‍্যাপ্ত। দিগঙ্গার নিম্নতম প্রবাহ সম্বন্ধে কিছু কিছু ঐতিহাসিক তথ‍্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায় মৎসপুরান, বায়ুপুরান, মহাভারত ও টলেমির ভৌগলিক বিবরণীতে। সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিছু কিছূ প্রাগ-বৈদিক যূগের আয়ুধ, কুঠার ইত‍্যাদি পাওয়া যায়। তাছাড়া ডঃ পরেশ দাশগুপ্তর নেত‍ৃত্বেও অনেক কিছু আবিস্কৃত হয়েছে হরিনারায়ণপুর, কঙ্কনদিঘি, আটঘরা, খোপের চক্ প্রভৃতি প্রত্নস্থল থেকে। এসব পুরা-নিদর্শনেই জেলার প্রাচিন জনসমাজের কথা জানা যায়।এই রকমই একটা স্থান হল সুন্দরবন অঞ্চলের রায়দিঘি থানার অন্তর্গত 'কঙ্কনদিঘি'র জটার দেউল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ইতিহাস কত প্রাচীন? এ প্রশ্ন ভাবিয়ে  তোলে প্রত্নতাত্বিকদের। এর উত্তরও জানা আছে। ১০০০ বছরের সাক্ষ দিচ্ছে 'জটার দেউল '।


করুণাদিঘির পরে  মণি নদীর তীরে ১১৬ নং লটে এক জঙ্গলের গভীরে বাঘ ও সাপের থেকে প্রত্নতাত্বিক কালিদাস দত্ত এই মন্দির আবিস্কার করেন এবং তারই প্রচেষ্টায়  কেন্দ্রীয় সরকার 'মাউন্ট প্রিজারভিশন অ‍্যাক্ট' -এর আওতায় এই সুপ্রাচীন মন্দিরটি অধিগ্রহন করে। ১২৭৪ বঙ্গাব্দে জঙ্গল হাসিল করবার সময় স্মিথ নামে এক ইংরেজ কর্মচারী করুণাদিঘি দ্বীপে আসেন। তিনি গুপ্তধন মনে করে জটার দেউলের চূড়াটি ভেঙে ফেলেন। কিন্তু চূড়া থেকে  স্মিত সাহেব কিছুই পাননি। তাই চূড়াহীন দেউল এখনও বিদ‍্যমান। বর্তমানে চূড়াহীন মন্দিরটির উচ্চতা ১০০ফুট। এটি আটকোনা স্তুপাকৃতি মন্দির। ৬/৭টি সিড়ি ভেঙ্গে নামলেই দেখতে পাবেন শিবলিঙ্গ। কিন্তু শিবলিঙ্গটা চুরি হয়ে গেছে। তবে প্রত্নবিদ হান্টার সাহেব মন্দিরটি দেখে বলেন গঠনশৈলী একদম বুদ্ধ মঠের মত।  

১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে জমিদার দুর্গাপ্রসাদ রায়চৌধুরী মন্দির খননের সময় একটি তাম্রলিপি আবিষ্কার করেন। এই তাম্রলিপিটি সব সংশয়ের অবসান ঘটায়। 

লিপি থেকে জানা যায়, রাজা রাজেন্দ্র চন্দ্র ৮৯৭ শকাব্দে  মন্দিরটি নির্মাণ করেন। পাথরপ্রতিমায় এই রকমই একটি মন্দির দেখা যায়। 

জটাধারি এক দৈত‍্য এখানে বাস করত তাই নাম হয়েছে জটার দেউল। অন‍্য মতে  শিবের জটাধারি থেকে জটার দেউল নাম হয়েছে।  বর্তমানে দিল্লি সরকারের তরফ থেকে  মন্দির সংলগ্ন চারপাশটা প্রাচীর দিয়ে  দেওয়া হয়।  

পাল যুগের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হচ্ছে এই দেউলটি। মন্দিরের গায়ের চিত্রগুলি খুবই আকর্ষক।


 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ